মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
কলাপাড়ায় খাল দখল করে তোলা বহুতল ভবন ভেঙ্গে ফেলছে জেলা প্রশাসন।। কচুয়ায় অগ্নিকান্ডে পুড়েছে ৫টি বসতঘর কচুয়ার তেতৈয়া সপ্রাবি’র ভোট কেন্দ্র স্থানাস্তরের চেষ্টার অভিযোগ ॥ ক্ষোভ চরমে! কলাপাড়ায় করোনাকালীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন। কলাপাড়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ।। কলাপাড়ায় গভীর রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন, অর্ধলক্ষ টাকা চুরির অভিযোগ।। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সৈকতের প্লাস্টিক বর্জ্য ও ছেড়া জাল অপসারন।। কলাপাড়ায় ফৌজদারী অপরাধে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষিকা শ্রীঘরে।। বেলাবতে দৈনিক কালের নতুন সংবাদ পত্রিকার ৪ র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত কলাপাড়ায় ১০ অসচ্ছল সাংস্কৃতিক কর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক প্রদান।। 

মির্জাগঞ্জের কাঠালতলীতে ২০ শয্যা হাসপাতাল থাকলেও নেই চিকিৎসা, যেন দেখার কেউ নেই!!

 

মো: জিয়াউল হক//
গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে রোগীরা উপজেলা ও বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে যাচ্ছেন। কিন্তু করোনা রোগীদের চাপে সেখানেও তারা বিভিন্ন রকম হয়রানির শিকার হয়ে সঠিক চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। শেষ পর্যন্ত রোগীদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে তার স্বজনরা।

করোনার জটিল রোগীদের পাশাপাশি অন্যান্য রোগীরাও চিকিৎসা সেবার জন্য বিভাগীয় ও জেলা উপজেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। অথচ জনবল সংকট না থাকলে এসব রোগের চিকিৎসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ওয়ার্ড পর্যায়ের হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিকে নেওয়া সম্ভব। জনবল সংকটের কারণে গ্রামাঞ্চলের হাসপাতালে শয্যা ফাঁকা থাকলেও চিকিৎসা সেবা নেই।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ কাঠালতলীতে ২০ শয্যার হাসপাতালে শুধুই শয্যা পরে রয়েছে নেই কোনো চিকিৎসা সেবা। ২০০৫ সারের ১৫ এপ্রিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের অধিনে ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন তৈরি করা হয়।

২০০৫ সালে কাঠালতলী ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ভবনটি উদ্বোধন করেন সাবেক বানিজ্য মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) অালতাফ হোসেন চৌধুরী। ১৬ বছর পাড় হলেও তবে মেডিকেলের তেমন কোনো কার্যক্রমই শুরু হয়নি। ২০০৯ সালে বহির্বিভাগ চালু হলে তাও ৭-৮ মাস পরে বন্ধ হয়ে যায়। অাবার ২০১৬ সালে চালু হলেও এখন নেই কোনো ডাক্তার।

প্রথম সকাল অনুসন্ধানে সরেজমিনে দেখা যায়,স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের অধিনে ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন উদ্বোধনের পর ১৬ বছরে চালু হয়নি জরুরী বিভাগ।হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদ শূন্য। মেডিকেলে অফিসার হিসেবে ডা:মো: ইউসুফ মিয়াকে নিয়োগ দেয়া হলেও তিনি কর্মরত অাছেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে। এবং বহির্বিভাগ সাব -এসিস্ট্যন্ড কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রিয়াজ হোসেন কর্মরত থাকলেও তাকে নিয়মিত দেখা যায় না।

কাঠালতলী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার মো: ইউসুফ মিয়া জানান, ২০১৬ সালের কাঠালতলী ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটির বহির্বিভাগ চালু হয়েছে। তবে এখানে শুধু ১ জন সাব -এসিস্ট্যন্ড কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কর্মরত আছেন। তিনি আরো জানান অর্থনৈতিক কোটা ও প্রশাসনিক অনুমোদন পর্যাপ্ত পরিমান জনবল না থাকায় এই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি অারো জানান, এখানে স্থায়ীভাবে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। হাসপাতাল ভবনের বাথ রুমসহ একাধিক রুম দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় বর্তমানে অনুপযোগী। এই হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সদের থাকার জন্য একটি ভবন আছে যাতে রয়েছে ৪টি ফ্ল্যাট, ২টি ডাক্তারদের জন্য, ২টি নার্সদের জন্য। কিন্তু ভবনের ফ্ল্যাটগুলো ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। এমন কি পানি সরবরাহ ব্যাবস্থাও নেই। তিনি এই সকল সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য যথাযথ কর্তৃপপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করেন।

রোগী বারেক হাওলাদার (৫০) জানান, অনেক বছর আগে এখানে হাসপাতালটি স্থাপিত হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা এখানে তেমন কোনো চিকিৎসা পাই না। আমরা অসুস্থ হলে পার্শবর্তী উপজেলা বাকেরগঞ্জের হাসপাতাল অথবা অন্য কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হয়। এই হাসপাতালটি চালু থাকলে আমাদের জন্য চিকিৎসা নিতে সুবিধা হতো। রোগী আসমা বেগম (৪৫) জানান এই হাসপাতালে এলে শুধু শয্যা রয়েছে চিকিৎসা ওষুধ বা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা এখানে নেই। এলাকাবাসীর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দাবি দ্রুত কাঠালতলী ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গ চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কাঠালতলীবাসীকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে উপকৃত করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত