বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
কলাপাড়ায় খাল দখল করে তোলা বহুতল ভবন ভেঙ্গে ফেলছে জেলা প্রশাসন।। কচুয়ায় অগ্নিকান্ডে পুড়েছে ৫টি বসতঘর কচুয়ার তেতৈয়া সপ্রাবি’র ভোট কেন্দ্র স্থানাস্তরের চেষ্টার অভিযোগ ॥ ক্ষোভ চরমে! কলাপাড়ায় করোনাকালীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন। কলাপাড়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ।। কলাপাড়ায় গভীর রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন, অর্ধলক্ষ টাকা চুরির অভিযোগ।। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সৈকতের প্লাস্টিক বর্জ্য ও ছেড়া জাল অপসারন।। কলাপাড়ায় ফৌজদারী অপরাধে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষিকা শ্রীঘরে।। বেলাবতে দৈনিক কালের নতুন সংবাদ পত্রিকার ৪ র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত কলাপাড়ায় ১০ অসচ্ছল সাংস্কৃতিক কর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক প্রদান।। 

ভ্রাম্যমান পাঠশালা যাযাবরদের গন্তব্যহীন যাত্রার সাথী

মাহমুদ আহসান হাবিব :
ঠাকুরগাঁও সদরের রুহিয়া মধুপুর গ্রামে তাবু খাটানো যাযাবর দলের মানুষদের ঝড় বৃষ্টি নিয়ে মাথা ব্যথা না থাকলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আছে উদ্বেগ। তাইতো বেঞ্চ চেয়ার টেবিল ছাড়াই খোলা আকাশের নিচেই চলে তাদের পাঠদান।
সারা বছরই দলবেঁধে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ান যাযাবরেরা। সুবিধামতো জায়গা পেলে পলিথিনের তাবু খাটিয়ে থেকে যান কিছুদিনের জন্য, ভাসমান এই মানুষদের যেমন নেই কোন ঠিকানা তেমনি হয়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়ার সুযোগ। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়ানো মানুষ গুলো এমন জীবন যাপনে অভ্যস্ত হলেও স্বপ্ন দেখেন পরিবর্তন আসবে সন্তানের জীবনে।
পাঠাগারের একজন শিক্ষার্থীর মা লাকি আক্তার বলেন, আমি পড়ালেখার সুযোগ পাই নাই, আমার মেয়ে পড়ালেখা করতেছে এতে ভালো লাগতেছে।
বেদে দলটির ইমাম আব্দুর রব জানান, আমরাতো বেদে সম্প্রদায় লোক, আমাদের মাঠে ঘাটে পরে থাকতে হয়। কেন না আমাদের জীবন যেভাবে নষ্ট হয়েছে এটাতো হয়েই গেছে। আমরা তো চাইনা যে আমাদের বাচ্চাদের জীবন এভাবে নষ্ট হোক। তবে আমরা আমাদের বাচ্চাদের জন্য পড়ার একটা ব্যবস্থা করছি।
আপেল মাহমুদ স্থানীয় এক শিক্ষানুরাগী গিয়েছেন তাদের পাঠদান দেখতে, তিনি বলেন, বেদে সম্প্রদায় একটি যাযাবর জনগোষ্ঠী। দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে তারা অস্থায়ী ভাবে বসবাস করে। সে কারনে তাদের বাচ্চাদের পড়াশোনার সুযোগ থাকেনা। আজকে তাদের এই পড়াশোনার ব্যবস্থা দেখে আমি অনেক আনন্দিত।
শত প্রতিকূলতার মাঝেও অক্ষর জ্ঞানহীন থাকছেনা যাযাবর দলের শিশুরা। ভোরের আলো ফুটতেনা ফুটতেই বই খাতা হাতে তাবু ছেড়ে পাঠশালার পাটিতে বসে পরে শিশুরা। চোখেমুখে উপচে পরে উচ্ছ্বাস আর জানার আগ্রহ।
অনেক নেই এর মাঝেও ব্যতিক্রম এই পাঠশালায় আছে উদ্যমী শিক্ষক আর উচ্ছাসি একদল শিক্ষার্থী।
পাঠশালার শিক্ষার্থী পুতল জানায়, আমাদের পাঠশালায় অনেক কিছু শিখেছি অ, আ শিখেছি ছড়াও শিখেছি।
পাঠশালার শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলছেন, আমরা বেদে বহর নিয়ে যেখানেই যাই প্রতিদিন কাজের ফাঁকে যে সময় পাই ওই সময় থেকে এক দেড় ঘন্টা বাচ্চাদের লেখাপড়া শিখাই।
এই ভ্রাম্যমান পাঠশালা, যেন যাযাবরদের গন্তব্যহীন যাত্রা সাথী।
বেদে দলটির সর্দার নবীর উদ্দিন বলেন, অক্ষর জ্ঞানহীন মানুষ পৃথিবীতে অচল। তাই বাচ্চাদের এতটুকু শিখিয়ে দিতে পারলেই তারা চলে ফিরে খেতে পারবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত